Categories
টিপস

নারিকেল চাষ করে সাফল্য পাবেন যেভাবে

নারিকেল চাষ করে সাফল্য পাবেন যেভাবে ডাবের পানিতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নারিকেলের শাঁষে স্নেহ জাতীয় পদার্থের পরিমাণ বেশি। তাই নারিকেল পিত্তনাশক ও কৃমিনাশক। এর মালা বা আইচা পুড়িয়ে পাথরবাটি চাপা দিয়ে পাথরের গায়ে যে গাম বা কাই হয়, তা দাদ রোগের মহৌষধ। এককথায়, নারিকেল গাছের প্রতিটি অঙ্গই কোনো না কোনো কাজে লাগে। মাটি নারিকেল গাছের জন্য নিকাশযুক্ত দো-আঁশ থেকে পলি দো-আঁশ মাটি ভালো। চারা নারিকেল হতে বীজ নারিকেল তৈরি করা হয়।

রোপণ মধ্য-জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য-আশ্বিন মাস চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত সময়। লাইন থেকে লাইন এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৮ মিটার রাখা দরকার। প্রতি একরে ৬৩টি চারা রোপণ করা যায়। সার রোপণের আগে চারিদিকে ১ মিটার করে গর্ত তৈরি করে প্রতি গর্তে টিএসপি ২৫০ গ্রাম, এমওপি ৪০০ গ্রাম ও ১০ কেজি গোবর সার দিতে হয়। পূর্ণবয়স্ক গাছে সারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতি বছর ১০ কেজি গোবর সার দিতে হয়। সব সার দুই ভাগে দিতে হয়।

একভাগ মধ্য-বৈশাখ থেকে মধ্য-আষাঢ় এবং অন্য ভাগ মধ্য-ভাদ্র থেকে মধ্য-কার্তিক মাসে দিতে হয়। গাছের গোড়া থেকে অন্তত ১.৭৫ দূরে বৃত্তাকার রিং করে সার দিতে হয়। গাছে পটাশিয়াম ও বোরণের অভাব হলে ফল ঝরে পড়ে। সেচ শুকনো মৌসুমে ১৫ দিন পরপর ২-৩ বার সেচ দেওয়া উত্তম। তবে বর্ষা মৌসুমে পানি নিকাশ করা দরকার। ফল ফুল ফোটার পর ১১-১২ মাস পর ফল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। পাকা অবস্থায় নারিকেলের রং সবুজ থেকে বাদামি বা খয়েরি রং ধারণ করে। সঠিকভাবে নারিকেল চাষ করতে পারলে এক বছরের মাথায় অবশ্যই সাফল্য পাবেন।

Categories
অন্যান্য

জেনে নিন বেগুন চাষের নিয়ম

জেনে নিন বেগুন চাষের নিয়ম বেগুন সবজি হিসেবে সুস্বাদু। এর পুষ্টিগুণও মন্দ নয়। প্রায় সারা বছরই চাষ করা যায় এই সবজি। দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতা আনা সম্ভব। তাহলে আসুন জেনে নেই বেগুন চাষের নিয়ম- মাটি: সব মাটিতেই বেগুন জন্মে। তবে দো-আঁশ, এটেল দো-আঁশ ও পলিমাটি বেশি উপকারী। এছাড়া শীতকালে ফলন বেশি হয়। রোপণ: প্রথমে বীজতলায় চারা তৈরি করে নিন। এরপর ৫-৬ সপ্তাহ বয়সের চারা ৭৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে সারি করে ৬০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে লাগাতে হয়। গাছের আকার অনুযায়ী দূরত্ব ১০-১৫ সেন্টিমিটার কম-বেশি করা যায়। সময়: মাঘ-ফাল্গুন মাসে গ্রীষ্মকালীন, বৈশাখ মাসে বর্ষাকালীন, ভাদ্র-আশ্বিন মাসে শীতকালীন ফসলের জন্য চারা রোপণ করতে হয়।

সার: প্রতি হেক্টর জমিতে ৩৭০-৩৮০ কেজি ইউরিয়া, ১৪৫-১৫৫ কেজি টিএসপি, ২৪০-২৬০ কেজি এমপি এবং ৮-১২ টন গোবর প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োগ: অর্ধেক গোবর সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হয়। বাকি অর্ধেক গোবর, সম্পূর্ণ টিএসপি এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও এমপি সার পিট তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হয়। বাকি ইউরিয়া ও এমপি সার ৩টি সমান কিস্তিতে রোপণের ২১-৩৫ ও ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হয়। পরিচর্যা: মাঝে মাঝে গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হয়। শীতকালীন ও আগাম লাগানো বর্ষাকালীন বেগুনের জন্য প্রচুর পানি প্রয়োজন হয়। বেলে মাটিতে ১০-১৫ দিন পর সেচ দিতে হয়। বর্ষাকালীন ও বারোমাসী বেগুনের জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করতে হয়।

Categories
অন্যান্য

১২ মাস সবজি চারা উৎপাদন করবেন যেভাবে

অতিবৃষ্টি, বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সবজিচাষি তথা কৃষকদের সুবিধার্থে সুনামগঞ্জে গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে মাটিবিহীন উচ্চফলনশীল নানা জাতের সবজি চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ব্যক্তি পর্যায়ে উচ্চফলনশীল সবজির চারা উৎপাদন করছে ‘গ্রিনহিল সিডলিং ফার্ম’নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চলে এই পদ্ধতিতে বারো মাস উচ্চফলনশীল সবজির চারা উৎপাদন এটিই প্রথম। এতে স্থানীয় কৃষকরা বাড়ির কাছে উন্নতমানের চারা পাচ্ছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীররগর ইউনিয়নের সীমান্তের গ্রাম আমপাড়ায় দেড় একর জমি ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘গ্রিনহিল সিডলিং ফার্ম।

এই ফার্মে একসাথে ৫০ হাজার চারা উৎপাদনের সমক্ষমতা রয়েছে। মাটিবিহীন পদ্ধতিতে শূন্য মৃত্যুহার ও পোকা-মাকড়ের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন চারা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে আগাম উচ্চফলনশীল কয়েক প্রজাতির টমেটো, লাউ, ফুলকপি ও মরিচের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। Green মাটির বদলে প্লাস্টিকের তৈরি বিশেষ ট্রেতে কোকোপিট ব্যবহার করে শতভাগ শিকড়যুক্ত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এখানে প্রতিটি চারা দুই থেকে তিন টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। পলিহাউসের ভেতরে উৎপাদিত চারা ২০ দিন পরে রোপণযোগ্য হয়ে ওঠে।

চারাগুলো শতভাগ শিকড়যুক্ত থাকায় রোপণের পর মৃত্যুহার প্রায় শূন্য এবং মাটিবাহিত রোগজীবাণু মুক্ত। আধুনিক এই পলিহাউসে প্লাস্টিক ট্রেতে মাটির বদলে নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি কোকোপিট প্রক্রিয়াজাত ও জীবাণুমুক্ত করে বীজ বপন করা হয়। রোদের তাপ থেকে চারার সুরক্ষার জন্য ওপরে শেডনেট জুড়ে দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয় কৃত্রিম উপায়ে। তা ছাড়া গ্রিনহাউসের ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম দাঁড়কাক। কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে পোকা ঢুকলে তা ওই দাঁড়কাক শুষে নেয় সহজে। আধুনিক পলিহাউসে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সবজির চারা উৎপাদন হওয়ায় এখানের চারা নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। সবজিচাষিরা বাড়ির কাছে উন্নতমানের চারা পাওয়ায় সময়মত চাষাবাদের সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে নিয়মিত চারা উৎপাদন হলে এলাকায় কৃষি বিপ্লব ঘটবে বলে দাবি স্থানীয় কৃষক, কৃষি বিভাগ ও উদ্যোক্তাদের। Green উদ্যোক্তাদের দাবি, হাওরাঞ্চলে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার অবস্থা বিবেচনা করে কৃষকদের বারো মাস সবজি চাষে উৎসাহিত করে চারার উৎপাদন বাড়ানোর তাদের লক্ষ্য।

Categories
বিনোদন

শীতে ঘুরে আসুন সিলেটের জাফলং

সিলেটের জাফলং প্রকৃতি কন্যা হিসাবে পরিচিত। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে দৃষ্টিনন্দন। সীমান্তের ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম-ধারায় প্রবহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল-পানি, উঁচু পাহাড়ে গহীন অরণ্য ও শুনশান নীরবতার কারণে পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে।

সারিবদ্ধ চা বাগান, চারদিকে সবুজের সমারোহ, উঁচু-নিচু পাহাড়-টিলা, গহীন অরণ্য আর ঝর্ণাধারা। এছাড়া আছে লালা খাল, খাসিয়াপুঞ্জি, রাতারগুল, লোভাছড়া, পানতুমাই, বিছনাকান্দি। উঁচু পাহাড়, স্বচ্ছ জল, রকমারি নুড়ি পাথরের সমন্বয়ে গড়া আসাম সীমান্তবর্তী জাফলং। যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে একটু প্রশান্তির জন্য অনেকেই আসেন এখানে। সিলেটনগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলং এর রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে।

Categories
কৃষি

কিশমিশ খাওয়ার উপকারিতা

আঙুর ফলের শুকনা রূপই হচ্ছে কিশমিশ< যা তৈরি করা হয় সূর্যের তাপ অথবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সাহায্যে। তাপের কারণে আঙুরের ফ্রুক্টোজগুলো জমাট বেঁধে পরিণত হয় কিশমিশে। কিশমিশ খেতে আমরা অনেকেই পছন্দ করি। তবে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানি না। ৭০ শতাংশ খাঁটি এই ফ্রুক্টোজ সহজেই হজমযোগ্য। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য খাদ্যতালিকায় কিশমিশ রাখতে পারেন। আসুন জেনে নিই কিশমিশের পুষ্টিগুণ- ১. রক্তে লৌহের পরিমাণ কম হলে অবসাদ, দুর্বলতা, হতাশায় ভুগতে পারেন। এ ছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে পারে। কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে লৌহ আছে, যা রক্তশূন্যতা দূর করে।

২. কিশমিশ হাড় সুস্থ রাখে। হাড়ের এই রোগ প্রতিরোধ করতে বোরন নামের খনিজ পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর কিশমিশ বোরনের অন্যতম উৎস। বোরনে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম— যা হাড় গঠনের পাশাপাশি শরীরে টেসটোসটেরন এবং ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ৩. অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি বা রক্ত দূষিত হওয়াকে বলে অ্যাসিডোসিস, যা থেকে আথ্রাইটিস, চামড়া রোগ, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার হতে পারে। অ্যান্টাসিডস হিসেবে পরিচিতি দুটি উপাদান ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরের ক্ষরীয়ভাব স্বাভাবিক করে অ্যাসিডোসিসের হাত থেকে বাঁচায়। আর এই উপাদানগুলো কিশমিশে রয়েছে। ৪. নিয়মিত কিশমিশ খেলে বৃদ্ধ বয়সেও দৃষ্টিহীন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। পাশাপাশি কিশমিশে থাকা পলিফেনল উপাদান ক্ষতিকারক ফ্রি-রেডিকেলস ধ্বংস করে চোখকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। ৫. বিষাক্ত পদার্থ দূর করে রক্ত পরিষ্কার রাখে কিশমিশ। এ ছাড়া রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই।

Categories
দেশজুড়ে

অবশেষে অনুশীলনে ফিরলেন মাশরাফি

বঙ্গবন্ধু টি–টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়ে ক্রিকেটে ফেরার কথা ছিলো মাশরাফি বিন মর্তুজার। কিন্তু তার ফেরার পথে হয়ে দাঁড়িয়েছে । তবে মঙ্গলবার এ তারকা হয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন দীর্ঘ ৮ মাসেরও বেশি সময় পর। এরফলে ভক্তদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে দ্রুত তাকে মাঠের ক্রিকেটে দেখার।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর সিটি ক্লাব মাঠে ব্যক্তিগত অনুশীলনের সময় মাশরাফি। কিন্তু সে সময় হুমাইরা মর্তুজা ও ছেলে সাহেল মর্তুজার হবার কারণে তিনি করতে পারেননি। যে কারণে চলতি বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তার খেলা নিয়ে তৈরি হয় । শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হয়। অবশেষে মঙ্গলবার মাঠে ফিরেছেন মাশরাফি। সাড়ে ৮ মাস পর এদিন পূর্ণ রানআপে বোলিং অনুশীলন করেছেন।

মিরপুর একাডেমি মাঠে চার ওভার বোলিং করেন এ ডানহাতি পেসার। সর্বশেষ গত মার্চে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেন দেশের সবচেয়ে সফল ওয়ানডে অধিনায়ক। চোটের কারণে মাশরাফি খেলতে পারেননি বিসিবি আয়োজিত প্রেসিডেন্টস কাপে। মাঝে হয়েছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তবে বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টি কাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে গত অক্টোবরে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই শুরু করেন অনুশীলন।

সেখানেই পান ম্যাশ। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে অবশেষে মঙ্গলবার তিনি ফিরেছেন মাঠে। এদিন বিসিবির ট্রেইনার তুষার কান্তি হাওলাদারকে নিয়ে অনুশীলন শুরু করেন তিনি। একাডেমি মাঠের সেন্টার উইকেটে প্রায় ৩০ মিনিট বোলিং করেন এ তারকা। বোলিং অনুশীলনের পর মঙ্গলবার মাশরাফি ফিটনেস নিয়েও কাজ করেন।

পুরোপুরি ফিট হলে মাশরাফিকে দেখা যেতে পারে চলমান বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টি কাপে। যদিও এখনও কোন দলই তাকে টেনে নেয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে মুমিনুল হক পেয়ে এ টুর্নামেন্ট থেকে যাওয়ায় মাশরাফিকে ভেড়াতে পারে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কি হয়।

Categories
টিপস

সয়াবিন সঠিক চাষ পদ্ধতি

সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য সয়াবিন। আমিষ ও ভোজ্যতেল উৎপাদনে এটি অতি প্রয়োজনীয়। আজকের আয়োজন এর নানা দিক নিয়েআমিষ ও ভোজ্য তেল উৎপাদনে সয়াবিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশে এটি প্রধান ফসল হলেও বাংলাদেশে এখনও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশে সয়াবিন তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে দ্বিগুণ মূল্যে দিয়ে সয়াবিনের চাহিদা পূরণ করতে হয়। সুতরাং স্বল্প মূল্যে সরবরাহের লক্ষ্যে বাংলাদেশে সয়াবিন চাষ করা প্রয়োজন। তাই চাষিরা এর সঠিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে চাষ করে এ ফসল বৃদ্ধি করতে পারে।যেসব জায়গায় চাষ হয় বাংলাদেশে যদিও সব জেলায় এর চাষ শুরু হয়নি, কিন্তু সব জায়গায় এটি চাষ করা সম্ভব। কেননা সয়াবিন বছরের সব সময় চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। নিচু জমিতেও এর চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোয় সয়াবিনের আবাদ বেশি হচ্ছে। জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী। এছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় সয়াবিনের চাষ হয়ে আসছে।সয়াবিন মূলত অল্প সময়ের ফসল। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। এ ফসল চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর রাখে। এর ফলে পরবর্তী ফসলে অর্ধেক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। এর কম ও চাষাবাদ পদ্ধতিও সহজ। তাই চাষিরা বাজারক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।স্থান নির্বাচন সেচ ও পানি বের হয়ে যাওয়ার সুবিধা আছে এমন সমতল জমি সয়াবিন চাষের জন্য ভালো। বাড়ির আশেপাশে অথবা গাছের ছায়া পড়ে এমন জায়গা সয়াবিন চাষের জন্য বেছে নিতে পারেন। পরিবেশ ও মাটি সয়াবিন মাটিতে চাষের জন্য উপযোগী। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে ও খরিফ বা বর্ষা মৌসুমে পানি বের হওয়ার সুবিধা রাখতে হবে। রবি মৌসুমে মাঝারি নিচু জমিতেও চাষ করা যায়।
জমি তৈরি জমিতে প্রথমে আড়াআড়ি চাষ করে নিয়ে মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে করে ফেলতে হবে। এরপর আগাছা বাছাই ওদিয়ে পরিষ্কার করে কৃষি অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানো হয়ে গেলে বীজ বপন করতে হবে।বপনের সময় ও পদ্ধতিবাংলাদেশে শীত (রবি মৌসুম) ও বর্ষা (খরিফ মৌসুম) এ দুই মৌসুমেই সয়াবিন বপন করা যায়। পৌষ মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ভেতরে বপন করা ভালো। বর্ষা মৌসুমে শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাস, অর্থাৎ জুলাই থেকে আগস্টের ভেতরেও বপন করা যায়। সয়াবিনের বীজ সারি অনুযায়ী বপন করা ভালো। তবে কলাই বা মুগ ডালের মতো বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রবি মৌসুমে ১২ ও খরিফ মৌসুমে ১৬ রাখতে হবে। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব দুই থেকে দুই দশমিক পাঁচ রাখতে হবে।

Categories
দেশজুড়ে

সারি সারি খেজুর গাছ

নারিকেলবাড়িয়া শব্দটি বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। নাম শুনলেই মনে পড়ে এই গ্রামে বাশেঁর কেল্লা তৈরি করেছিলেন মীর নিসার আলী (তিতুমীর)। তবে এই নারিকেলবাড়িয়া সেই বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের না থাকলেও চিরায়ত বাংলার প্রকৃত রূপ দেখা যায় এ গ্রামে। প্রচুর নারিকেল গাছের মধ্যে বাড়িঘর থাকায় নামকরণ করা হয় ‘নারিকেলবাড়িয়া’।ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি জনপদের নাম নারিকেলবাড়িয়া। এই নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে নারিকেল গাছের পাশাপাশি খেজুর গাছও রয়েছে অনেক। গ্রাম বাংলার মেঠো পথ দিয়ে হাঁটার সময় দেখা যায় দুপাশে সারিবদ্ধ খেজুর গাছ। পরিকল্পিতভাবে খেজুর চারা রোপণ করা না হলেও প্রাকৃতিকভাবেই কোনো পরিচর্যা ছাড়াই গাছগুলোর এবং বেড়ে ওঠা।ঝালকাঠিতে শীতের শুরুতেই খেজুরের মিষ্টি রস সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। শীতের শুরু না হলেও পুরোদমে আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। তবে ইটভাটায় খেজুর গাছ ব্যবহার এবং নতুন করে রোপণ না করায় দিন দিন ঝালকাঠিতে খেজুর গাছের পরিমাণ।জেলার রাজাপুর কাঁঠালিয়া খেজুর রস ও গুড়ের জন্য একসময় বিখ্যাত ছিল। তবে সময় পরিবর্তনে যেতে বসেছে সেই দিন। কয়েক বছর আগেও উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন এলাকার বেশিরভাগ বাড়িতে, খেতের আইলের পাশে কিংবা রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে এইসব খেজুর গাছগুলো।প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু গুড়। অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এলাকার চাহিদা পূরণ করে বাড়তি গুড় সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন স্থানে। বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা খেত-খামারের পাশে এমনকি রাস্তাঘাটের পাশে আর আগের মতো খেজুর গাছের দেখা মেলে না।একসময় শীত মৌসুমে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকে। স্থানীয় ভাষায় এ মৌসুমি পেশাজীবীকে বলা হয় । সঙ্গে খেজুরের রসের নানা লোককথা বা গল্প থেকে গাছিদের স্থানীয় ভাষায় নামকরণ হয়। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ গাছিরা তাদের পূর্ব পুরুষদের পেশা ছেড়েছেন। তবে হাতেগোনা কয়েকজন এখনো ধরে রেখেছেন পেশা।জেলার গ্রামের গাছি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বাঙালিরা মৌসুমভিত্তিক কিছু খাবারের প্রতি আকৃষ্ট। খেজুর গাছের রসের প্রতি আমাদের এখনো আছে। আমার বাবার পেশা ছিল এই খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করা। বাবার মারা যাওয়ার পর তিনি পেশাটি ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেশাটি বর্তমানে ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছি না।’দক্ষিণ গ্রামের গাছি কামাল হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা খেজুর গাছের কথা গেছি। আমাদের উচিত অন্যান্য বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি খেজুর গাছ রোপণ করা। নতুবা আগামী কাছে খেঁজুর গাছ অচেনা গাছে হবে।’রাজাপুরের নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন গাছি জানান, শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে গাছ পরিষ্কার করতে হয়। এরপর গাছ কেটে মিষ্টি রস সংগ্রহ করা হয়। এখন তারা গাছ পরিষ্কার ও কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা খেত-খামারের পাশে এমনকি রাস্তাঘাটের পাশে আর আগের মতো খেজুর গাছের দেখা মেলে না। আমাদের কারণে আজ অনেকটাই পথে পরিবেশবান্ধব গুরুত্বপূর্ণ এই খেজুর গাছ। খেজুর গাছের এই সংকট নিরসনে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, বৃদ্ধি করতে হবে এবং বেশি বেশি করে খেজুর গাছ রোপণ করতে হবে।’ এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Categories
আন্তর্জাতিক

মিষ্টি কুমড়া চাষে স্বপ্ন দেখছেন কুড়িগ্রামের চরের কৃষকরা

মিষ্টি কুমড়া চাষে স্বপ্ন দেখছেন কুড়িগ্রামের চরের কৃষকরা। কুড়িগ্রামে ছোট বড় বিভিন্ন চরাঞ্চলে এবার মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে, ফলনও হয়েছে বাম্পার। মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে সব মিলে খরচ হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমির উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হবে ২৫–৩০ হাজার টাকা। কুমড়ার বীজ জমিতে বপনের ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই কুমড়া বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান চাষিরা।

কৃষক আব্দুল খালেক ও রমজান জানান, এবার প্রথম আমরা চারজন বন্ধু মিলে এ চরে ৩৫ বিঘা জমিতে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সুইটি, সোহাগী, সেরা, ছক্কা ও ব্যাংকক–১ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেছি। গাছ ভালো হয়েছে ও ফুল আসছে। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে আসা করছি আগামী ১ মাসের মধ্যে বাজারে বিক্রি করতে পারবো।

কুমড়া চাষি আনিছুর বলেন, ২২ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘায় ২৫ হাজার টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে পারবো।

কুড়িগ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখেছি মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। এবার কৃষকরা কুমড়া চাষে লাভবান হতে পারবেন আশা করছি।

Categories
কৃষি

শীত মৌসুমে খামারিদের সঙ্গে লাভবান ব্যবসায়ীরাও

শীত মৌসুমের শুরুতেই লক্ষ্মীপুরে চলছে হাঁস বিক্রির। ঐতিহ্য হিসেবে শীত এলেই এ অঞ্চলে হাঁসের চাহিদা বাড়ে। শীতের শুরুতেই জাতভেদে এখন প্রতি জোড়া হাঁস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়। অধিক লাভের আশায় খামারি ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে হাঁস সংগ্রহ করে হাটবাজার ও গ্রামাঞ্চলে ফেরি করে বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এ ব্যবসায় অনেকেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরে শীত মৌসুমে হাঁসের একটি ব্যতিক্রমী ভোজনবিলাসের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। শীত এলেই এ অঞ্চলে হাঁসের বাড়ে। এ সময় লক্ষ্মীপুরের । এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

অধিক লাভের আশায় খামারিরা ছাড়াও চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হাঁস সংগ্রহ করে হাটবাজারে হাঁস বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ সময় অল্প কিছু মূলধন নিয়ে এ ব্যবসায় নেমে পড়েন তারা। ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ অঞ্চলে হাঁস আমদানি করা হচ্ছে ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও।

সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের নজির, কামরুল, রনিসহ কয়েকজন হাঁস বিক্রেতা জানান, তারা চরাঞ্চল থেকে দুধ এনে শহরে ও গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন। কিন্তু শীতকালে দুধের চাহিদা ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা চরাঞ্চল থেকে হাঁস ৪০০–৪৫০ টাকায় কিনে আনেন। পরে ফেরি করে বিক্রি করেন ৫০০–৭০০ টাকায়। এতে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।

সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের কয়েকজন জানান, ঐতিহ্য হিসেবে শীত এলেই এ অঞ্চলে হাঁসের চাহিদা বেড়ে যায়। হাঁস রান্না করা সময়সাপেক্ষ এবং একটু হওয়ায় দলগত কিংবা পারিবারিকভাবে শীতের সময়ে চলে হাঁস রান্নার আয়োজন।

একই উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের রিপন হোসেন, জামাল মিয়াসহ কয়েকজন হাঁস ব্যবসায়ী বলেন, অন্য সময় হাঁস বেচাকেনা কম হলেও শীত মৌসুমে হাঁসের চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে এ সময় নর (আড়িয়া) হাঁসের চাহিদা ও দাম বেশ ভালো। একেকটি পুরুষ হাঁস মানভেদে বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এ সময় খামারিরা যেমন লাভবান হন, তেমনি তারাও লাভবান হন বলে জানান।

কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রেশমা বেগম। তিনি জানান, তার খামারে ২৫টি দেশি মাদি ও ৭টি নর হাঁস রয়েছে। এতদিন মাদিগুলো থেকে ডিম বিক্রি করেছেন। এখন হাঁসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এগুলো বিক্রি করে আবার নতুন করে বাচ্চা এনে তা লালন করবেন বলে জানান তিনি।