Categories
আন্তর্জাতিক

মিষ্টি কুমড়া চাষে স্বপ্ন দেখছেন কুড়িগ্রামের চরের কৃষকরা

মিষ্টি কুমড়া চাষে স্বপ্ন দেখছেন কুড়িগ্রামের চরের কৃষকরা। কুড়িগ্রামে ছোট বড় বিভিন্ন চরাঞ্চলে এবার মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে, ফলনও হয়েছে বাম্পার। মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে সব মিলে খরচ হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমির উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হবে ২৫–৩০ হাজার টাকা। কুমড়ার বীজ জমিতে বপনের ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই কুমড়া বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান চাষিরা।

কৃষক আব্দুল খালেক ও রমজান জানান, এবার প্রথম আমরা চারজন বন্ধু মিলে এ চরে ৩৫ বিঘা জমিতে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সুইটি, সোহাগী, সেরা, ছক্কা ও ব্যাংকক–১ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেছি। গাছ ভালো হয়েছে ও ফুল আসছে। আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে আসা করছি আগামী ১ মাসের মধ্যে বাজারে বিক্রি করতে পারবো।

কুমড়া চাষি আনিছুর বলেন, ২২ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘায় ২৫ হাজার টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে পারবো।

কুড়িগ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখেছি মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। এবার কৃষকরা কুমড়া চাষে লাভবান হতে পারবেন আশা করছি।

Categories
আন্তর্জাতিক

শখ ও চাহিদা পূরণে কবুতর পালন

কবুতর পালন বেশ লাভজনক। শান্তির প্রতীকও বিবেচনা করা হয়। আজকের আয়োজন পাখিটির বিভিন্ন দিক নিয়ে

কবুতর গৃহপালিত পাখি। একে শান্তির প্রতীক হিসেবেও ধরা হয়। প্রায় সব মানুষই কবুতর ভালোবাসে। তাই বাড়িতে পালন করে অনেকে বিভিন্ন চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। কেউ শখের বশে, কেউবা পূরণে কবুতর লালন-পালন করেন। এর বেশ সুস্বাদু। তাই এর প্রতি আগ্রহও রয়েছে অনেকের। এসব চাহিদার কারণে বাড়ছে কবুতর পালন। এজন্য কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। তবেই সফলতা আসে।
কবুতর মূলত তিন পদ্ধতিতে পালন
করা যায়:

মুক্ত পদ্ধতি কবুতরের ঘর আবাসস্থলের ২০০ থেকে ৩০০ ফুট দূরে দক্ষিণমুখী হতে হবে। মাটি থেকে এদের ঘরের উচ্চতা আট থেকে ১০ ফুট হবে। খোপ সাধারণত দুই থেকে তিনতলা বিশিষ্ট করা হয়। এমন খোপের আয়তন প্রতিজোড়া ছোট আকারের কবুতরের জন্য ৩০ সেন্টিমিটার ও বড় আকারের কবুতরের জন্য ৫০ সেন্টিমিটার হলে ভালো। ফলে কবুতর ইচ্ছেমতো চলাচলের সুযোগ পায়।

খাঁচা পদ্ধতি অনেক শৌখিন ব্যক্তি খাঁচায় বিভিন্ন ধরনের নজরকাড়া কবুতর পুষে থাকেন। তাদের পালন করা কবুতর যে কত সুন্দর হতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এসব আকার কেমন হবে তা নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের কবুতর পালতে চাচ্ছেন, তার ওপর। শুধু গিরিবাজ পালতে চাইলে ছোট বা মাঝারি আকারের খাঁচা হলেই চলে। সৌখিন কবুতর পালতে চান? তাহলে সাধারণের থেকে একটু বড় হতে হবে খাঁচা।

ঘরের ভেতরে উম্মুক্ত পদ্ধতি এ পদ্ধতিতে আনেক কবুতর একসঙ্গে পালন করা যায়। একটি খামারের জন্য ৩০ থেকে ৪০ জোড়া কবুতর আদর্শ। এমন ঘরের মাপ হবে দশমিক পাঁচ ফুট। অল্প খরচে সহজে ঘর তৈরি ও স্থানান্তর করার জন্য কাঠ, টিন, বাঁশ, খড় প্রভৃতি উপকরণ কাজে লাগান। ঘরের মধ্যে কবুতরের ডিম দেওয়ার জায়গা তৈরি করে দিতে হয়। অনেক সময় নরম ও শুকনো রেখে দিলে তারা ঠোঁটে করে নিয়েই নিজেরাই বাসা তৈরি করে নেয়।

সাধারণ বাসস্থান উচ্চ বাসস্থান কবুতর পালনের জন্য খুব দরকার। কেননা, যায়। তাছাড়া এতে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও পাওয়া যায়। সতর্ক থাকতে হবে বৃষ্টির পানি যাতে সেখানে না পৌঁছায়। তাই ব্যবস্থা রাখতে হবে। কবুতরের ঘর তৈরির জন্য পাতলা কাঠ বা টিন অথবা বাঁশ প্রয়োজন। প্রতিটি কবুতরের জন্য ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা, উঁচু ও প্রশস্ত জায়গার প্রয়োজন। প্রতিটি ঘর এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে সেখানে তিনটি কবুতর থাকতে পারে। ঘরে সেন্টিমিটার পরিমাপের দরজা থাকতে হবে। সব সময় ঘর পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে। কাছাকাছি শুকনো খড় রাখুন। তারা নিজেরাই খড় দিয়ে নিজেদের মতো করে বিছানা করে নেবে। বাইরে পাতলা কাঠ পেতে রাখতে হবে, যাতে সেখানে খাবার ও পানি রাখা যায়। এখান থেকে এরা পান করবে ও পানির পাত্র থেকে গোসল করতে পারবে। সব সময় পরিষ্কার পানি পরিবেশনের চেষ্টা করতে হবে।