Categories
টিপস

নারিকেল চাষ করে সাফল্য পাবেন যেভাবে

নারিকেল চাষ করে সাফল্য পাবেন যেভাবে ডাবের পানিতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নারিকেলের শাঁষে স্নেহ জাতীয় পদার্থের পরিমাণ বেশি। তাই নারিকেল পিত্তনাশক ও কৃমিনাশক। এর মালা বা আইচা পুড়িয়ে পাথরবাটি চাপা দিয়ে পাথরের গায়ে যে গাম বা কাই হয়, তা দাদ রোগের মহৌষধ। এককথায়, নারিকেল গাছের প্রতিটি অঙ্গই কোনো না কোনো কাজে লাগে। মাটি নারিকেল গাছের জন্য নিকাশযুক্ত দো-আঁশ থেকে পলি দো-আঁশ মাটি ভালো। চারা নারিকেল হতে বীজ নারিকেল তৈরি করা হয়।

রোপণ মধ্য-জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য-আশ্বিন মাস চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত সময়। লাইন থেকে লাইন এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৮ মিটার রাখা দরকার। প্রতি একরে ৬৩টি চারা রোপণ করা যায়। সার রোপণের আগে চারিদিকে ১ মিটার করে গর্ত তৈরি করে প্রতি গর্তে টিএসপি ২৫০ গ্রাম, এমওপি ৪০০ গ্রাম ও ১০ কেজি গোবর সার দিতে হয়। পূর্ণবয়স্ক গাছে সারের পরিমাণ বাড়াতে হবে। প্রতি বছর ১০ কেজি গোবর সার দিতে হয়। সব সার দুই ভাগে দিতে হয়।

একভাগ মধ্য-বৈশাখ থেকে মধ্য-আষাঢ় এবং অন্য ভাগ মধ্য-ভাদ্র থেকে মধ্য-কার্তিক মাসে দিতে হয়। গাছের গোড়া থেকে অন্তত ১.৭৫ দূরে বৃত্তাকার রিং করে সার দিতে হয়। গাছে পটাশিয়াম ও বোরণের অভাব হলে ফল ঝরে পড়ে। সেচ শুকনো মৌসুমে ১৫ দিন পরপর ২-৩ বার সেচ দেওয়া উত্তম। তবে বর্ষা মৌসুমে পানি নিকাশ করা দরকার। ফল ফুল ফোটার পর ১১-১২ মাস পর ফল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। পাকা অবস্থায় নারিকেলের রং সবুজ থেকে বাদামি বা খয়েরি রং ধারণ করে। সঠিকভাবে নারিকেল চাষ করতে পারলে এক বছরের মাথায় অবশ্যই সাফল্য পাবেন।

Categories
টিপস

সয়াবিন সঠিক চাষ পদ্ধতি

সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য সয়াবিন। আমিষ ও ভোজ্যতেল উৎপাদনে এটি অতি প্রয়োজনীয়। আজকের আয়োজন এর নানা দিক নিয়েআমিষ ও ভোজ্য তেল উৎপাদনে সয়াবিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশে এটি প্রধান ফসল হলেও বাংলাদেশে এখনও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশে সয়াবিন তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে দ্বিগুণ মূল্যে দিয়ে সয়াবিনের চাহিদা পূরণ করতে হয়। সুতরাং স্বল্প মূল্যে সরবরাহের লক্ষ্যে বাংলাদেশে সয়াবিন চাষ করা প্রয়োজন। তাই চাষিরা এর সঠিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে চাষ করে এ ফসল বৃদ্ধি করতে পারে।যেসব জায়গায় চাষ হয় বাংলাদেশে যদিও সব জেলায় এর চাষ শুরু হয়নি, কিন্তু সব জায়গায় এটি চাষ করা সম্ভব। কেননা সয়াবিন বছরের সব সময় চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। নিচু জমিতেও এর চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোয় সয়াবিনের আবাদ বেশি হচ্ছে। জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী। এছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় সয়াবিনের চাষ হয়ে আসছে।সয়াবিন মূলত অল্প সময়ের ফসল। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। এ ফসল চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর রাখে। এর ফলে পরবর্তী ফসলে অর্ধেক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। এর কম ও চাষাবাদ পদ্ধতিও সহজ। তাই চাষিরা বাজারক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।স্থান নির্বাচন সেচ ও পানি বের হয়ে যাওয়ার সুবিধা আছে এমন সমতল জমি সয়াবিন চাষের জন্য ভালো। বাড়ির আশেপাশে অথবা গাছের ছায়া পড়ে এমন জায়গা সয়াবিন চাষের জন্য বেছে নিতে পারেন। পরিবেশ ও মাটি সয়াবিন মাটিতে চাষের জন্য উপযোগী। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে ও খরিফ বা বর্ষা মৌসুমে পানি বের হওয়ার সুবিধা রাখতে হবে। রবি মৌসুমে মাঝারি নিচু জমিতেও চাষ করা যায়।
জমি তৈরি জমিতে প্রথমে আড়াআড়ি চাষ করে নিয়ে মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে করে ফেলতে হবে। এরপর আগাছা বাছাই ওদিয়ে পরিষ্কার করে কৃষি অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানো হয়ে গেলে বীজ বপন করতে হবে।বপনের সময় ও পদ্ধতিবাংলাদেশে শীত (রবি মৌসুম) ও বর্ষা (খরিফ মৌসুম) এ দুই মৌসুমেই সয়াবিন বপন করা যায়। পৌষ মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ভেতরে বপন করা ভালো। বর্ষা মৌসুমে শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাস, অর্থাৎ জুলাই থেকে আগস্টের ভেতরেও বপন করা যায়। সয়াবিনের বীজ সারি অনুযায়ী বপন করা ভালো। তবে কলাই বা মুগ ডালের মতো বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রবি মৌসুমে ১২ ও খরিফ মৌসুমে ১৬ রাখতে হবে। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব দুই থেকে দুই দশমিক পাঁচ রাখতে হবে।