Categories
দেশজুড়ে

অবশেষে অনুশীলনে ফিরলেন মাশরাফি

বঙ্গবন্ধু টি–টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়ে ক্রিকেটে ফেরার কথা ছিলো মাশরাফি বিন মর্তুজার। কিন্তু তার ফেরার পথে হয়ে দাঁড়িয়েছে । তবে মঙ্গলবার এ তারকা হয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন দীর্ঘ ৮ মাসেরও বেশি সময় পর। এরফলে ভক্তদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে দ্রুত তাকে মাঠের ক্রিকেটে দেখার।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর সিটি ক্লাব মাঠে ব্যক্তিগত অনুশীলনের সময় মাশরাফি। কিন্তু সে সময় হুমাইরা মর্তুজা ও ছেলে সাহেল মর্তুজার হবার কারণে তিনি করতে পারেননি। যে কারণে চলতি বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তার খেলা নিয়ে তৈরি হয় । শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হয়। অবশেষে মঙ্গলবার মাঠে ফিরেছেন মাশরাফি। সাড়ে ৮ মাস পর এদিন পূর্ণ রানআপে বোলিং অনুশীলন করেছেন।

মিরপুর একাডেমি মাঠে চার ওভার বোলিং করেন এ ডানহাতি পেসার। সর্বশেষ গত মার্চে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেন দেশের সবচেয়ে সফল ওয়ানডে অধিনায়ক। চোটের কারণে মাশরাফি খেলতে পারেননি বিসিবি আয়োজিত প্রেসিডেন্টস কাপে। মাঝে হয়েছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। তবে বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টি কাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে গত অক্টোবরে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই শুরু করেন অনুশীলন।

সেখানেই পান ম্যাশ। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে অবশেষে মঙ্গলবার তিনি ফিরেছেন মাঠে। এদিন বিসিবির ট্রেইনার তুষার কান্তি হাওলাদারকে নিয়ে অনুশীলন শুরু করেন তিনি। একাডেমি মাঠের সেন্টার উইকেটে প্রায় ৩০ মিনিট বোলিং করেন এ তারকা। বোলিং অনুশীলনের পর মঙ্গলবার মাশরাফি ফিটনেস নিয়েও কাজ করেন।

পুরোপুরি ফিট হলে মাশরাফিকে দেখা যেতে পারে চলমান বঙ্গবন্ধু টি–টোয়েন্টি কাপে। যদিও এখনও কোন দলই তাকে টেনে নেয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে মুমিনুল হক পেয়ে এ টুর্নামেন্ট থেকে যাওয়ায় মাশরাফিকে ভেড়াতে পারে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কি হয়।

Categories
দেশজুড়ে

সারি সারি খেজুর গাছ

নারিকেলবাড়িয়া শব্দটি বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। নাম শুনলেই মনে পড়ে এই গ্রামে বাশেঁর কেল্লা তৈরি করেছিলেন মীর নিসার আলী (তিতুমীর)। তবে এই নারিকেলবাড়িয়া সেই বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের না থাকলেও চিরায়ত বাংলার প্রকৃত রূপ দেখা যায় এ গ্রামে। প্রচুর নারিকেল গাছের মধ্যে বাড়িঘর থাকায় নামকরণ করা হয় ‘নারিকেলবাড়িয়া’।ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি জনপদের নাম নারিকেলবাড়িয়া। এই নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে নারিকেল গাছের পাশাপাশি খেজুর গাছও রয়েছে অনেক। গ্রাম বাংলার মেঠো পথ দিয়ে হাঁটার সময় দেখা যায় দুপাশে সারিবদ্ধ খেজুর গাছ। পরিকল্পিতভাবে খেজুর চারা রোপণ করা না হলেও প্রাকৃতিকভাবেই কোনো পরিচর্যা ছাড়াই গাছগুলোর এবং বেড়ে ওঠা।ঝালকাঠিতে শীতের শুরুতেই খেজুরের মিষ্টি রস সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। শীতের শুরু না হলেও পুরোদমে আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। তবে ইটভাটায় খেজুর গাছ ব্যবহার এবং নতুন করে রোপণ না করায় দিন দিন ঝালকাঠিতে খেজুর গাছের পরিমাণ।জেলার রাজাপুর কাঁঠালিয়া খেজুর রস ও গুড়ের জন্য একসময় বিখ্যাত ছিল। তবে সময় পরিবর্তনে যেতে বসেছে সেই দিন। কয়েক বছর আগেও উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন এলাকার বেশিরভাগ বাড়িতে, খেতের আইলের পাশে কিংবা রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে এইসব খেজুর গাছগুলো।প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু গুড়। অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এলাকার চাহিদা পূরণ করে বাড়তি গুড় সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন স্থানে। বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা খেত-খামারের পাশে এমনকি রাস্তাঘাটের পাশে আর আগের মতো খেজুর গাছের দেখা মেলে না।একসময় শীত মৌসুমে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকে। স্থানীয় ভাষায় এ মৌসুমি পেশাজীবীকে বলা হয় । সঙ্গে খেজুরের রসের নানা লোককথা বা গল্প থেকে গাছিদের স্থানীয় ভাষায় নামকরণ হয়। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ গাছিরা তাদের পূর্ব পুরুষদের পেশা ছেড়েছেন। তবে হাতেগোনা কয়েকজন এখনো ধরে রেখেছেন পেশা।জেলার গ্রামের গাছি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বাঙালিরা মৌসুমভিত্তিক কিছু খাবারের প্রতি আকৃষ্ট। খেজুর গাছের রসের প্রতি আমাদের এখনো আছে। আমার বাবার পেশা ছিল এই খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করা। বাবার মারা যাওয়ার পর তিনি পেশাটি ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেশাটি বর্তমানে ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছি না।’দক্ষিণ গ্রামের গাছি কামাল হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা খেজুর গাছের কথা গেছি। আমাদের উচিত অন্যান্য বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি খেজুর গাছ রোপণ করা। নতুবা আগামী কাছে খেঁজুর গাছ অচেনা গাছে হবে।’রাজাপুরের নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন গাছি জানান, শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে গাছ পরিষ্কার করতে হয়। এরপর গাছ কেটে মিষ্টি রস সংগ্রহ করা হয়। এখন তারা গাছ পরিষ্কার ও কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা খেত-খামারের পাশে এমনকি রাস্তাঘাটের পাশে আর আগের মতো খেজুর গাছের দেখা মেলে না। আমাদের কারণে আজ অনেকটাই পথে পরিবেশবান্ধব গুরুত্বপূর্ণ এই খেজুর গাছ। খেজুর গাছের এই সংকট নিরসনে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, বৃদ্ধি করতে হবে এবং বেশি বেশি করে খেজুর গাছ রোপণ করতে হবে।’ এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Categories
দেশজুড়ে

শখ ও চাহিদা পূরণে কবুতর পালন

কবুতর পালন বেশ লাভজনক। শান্তির প্রতীকও বিবেচনা করা হয়। আজকের আয়োজন পাখিটির বিভিন্ন দিক নিয়ে

কবুতর গৃহপালিত পাখি। একে শান্তির প্রতীক হিসেবেও ধরা হয়। প্রায় সব মানুষই কবুতর ভালোবাসে। তাই বাড়িতে পালন করে অনেকে বিভিন্ন চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। কেউ শখের বশে, কেউবা পূরণে কবুতর লালন-পালন করেন। এর বেশ সুস্বাদু। তাই এর প্রতি আগ্রহও রয়েছে অনেকের। এসব চাহিদার কারণে বাড়ছে কবুতর পালন। এজন্য কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। তবেই সফলতা আসে।
কবুতর মূলত তিন পদ্ধতিতে পালন
করা যায়:

মুক্ত পদ্ধতি কবুতরের ঘর আবাসস্থলের ২০০ থেকে ৩০০ ফুট দূরে দক্ষিণমুখী হতে হবে। মাটি থেকে এদের ঘরের উচ্চতা আট থেকে ১০ ফুট হবে। খোপ সাধারণত দুই থেকে তিনতলা বিশিষ্ট করা হয়। এমন খোপের আয়তন প্রতিজোড়া ছোট আকারের কবুতরের জন্য ৩০ সেন্টিমিটার ও বড় আকারের কবুতরের জন্য ৫০ সেন্টিমিটার হলে ভালো। ফলে কবুতর ইচ্ছেমতো চলাচলের সুযোগ পায়।

খাঁচা পদ্ধতি অনেক শৌখিন ব্যক্তি খাঁচায় বিভিন্ন ধরনের নজরকাড়া কবুতর পুষে থাকেন। তাদের পালন করা কবুতর যে কত সুন্দর হতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এসব আকার কেমন হবে তা নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের কবুতর পালতে চাচ্ছেন, তার ওপর। শুধু গিরিবাজ পালতে চাইলে ছোট বা মাঝারি আকারের খাঁচা হলেই চলে। সৌখিন কবুতর পালতে চান? তাহলে সাধারণের থেকে একটু বড় হতে হবে খাঁচা।

ঘরের ভেতরে উম্মুক্ত পদ্ধতি এ পদ্ধতিতে আনেক কবুতর একসঙ্গে পালন করা যায়। একটি খামারের জন্য ৩০ থেকে ৪০ জোড়া কবুতর আদর্শ। এমন ঘরের মাপ হবে দশমিক পাঁচ ফুট। অল্প খরচে সহজে ঘর তৈরি ও স্থানান্তর করার জন্য কাঠ, টিন, বাঁশ, খড় প্রভৃতি উপকরণ কাজে লাগান। ঘরের মধ্যে কবুতরের ডিম দেওয়ার জায়গা তৈরি করে দিতে হয়। অনেক সময় নরম ও শুকনো রেখে দিলে তারা ঠোঁটে করে নিয়েই নিজেরাই বাসা তৈরি করে নেয়।

সাধারণ বাসস্থান উচ্চ বাসস্থান কবুতর পালনের জন্য খুব দরকার। কেননা, যায়। তাছাড়া এতে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও পাওয়া যায়। সতর্ক থাকতে হবে বৃষ্টির পানি যাতে সেখানে না পৌঁছায়। তাই ব্যবস্থা রাখতে হবে। কবুতরের ঘর তৈরির জন্য পাতলা কাঠ বা টিন অথবা বাঁশ প্রয়োজন। প্রতিটি কবুতরের জন্য ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা, উঁচু ও প্রশস্ত জায়গার প্রয়োজন। প্রতিটি ঘর এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে সেখানে তিনটি কবুতর থাকতে পারে। ঘরে সেন্টিমিটার পরিমাপের দরজা থাকতে হবে। সব সময় ঘর পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে। কাছাকাছি শুকনো খড় রাখুন। তারা নিজেরাই খড় দিয়ে নিজেদের মতো করে বিছানা করে নেবে। বাইরে পাতলা কাঠ পেতে রাখতে হবে, যাতে সেখানে খাবার ও পানি রাখা যায়। এখান থেকে এরা পান করবে ও পানির পাত্র থেকে গোসল করতে পারবে। সব সময় পরিষ্কার পানি পরিবেশনের চেষ্টা করতে হবে।